বান্দরবান জেলার অসাধারণ সব দর্শনীয় স্থানের মধ্যে ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট (Double Hand View Point) এক অনন্য আকর্ষণ। বান্দরবান-থানচি সড়কে নীলগিরির একেবারে কাছেই অবস্থিত এই ভিউ পয়েন্টটি পর্যটকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মেঘের রাজ্য নীলগিরি যাওয়ার পথে কিংবা ফেরার পথে এই অসাধারণ স্পটটি ঘুরে দেখার সুযোগ মিস করা উচিত নয়।

আরও: সুখিয়া ভ্যালি
ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট কি এবং কেন বিশেষ
ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্টে পৌঁছালে প্রথমেই চোখে পড়বে পাহাড়ের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অসাধারণ স্থাপনা। দুই হাত প্রসারিত ভঙ্গিতে তৈরি এই চমৎকার কাঠামোটি দেখতে যেন কেউ আকাশ ছুঁতে চাইছে। ইট-সিমেন্ট দিয়ে তৈরি এই স্থাপনাটির নামানুসারেই এই জায়গার নাম হয়েছে ‘ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট’।

এই স্থাপনাটি থেকে চারপাশের পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। দিগন্ত জুড়ে সবুজ পাহাড়, ঘন বন আর মাঝে মাঝে ভেসে আসা সাদা মেঘের দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে। সকালের নরম আলো কিংবা বিকেলের সোনালি রোদ এই ভিউ পয়েন্টকে আরও মায়াবী করে তোলে।

প্রকৃতির যে রূপ দেখবেন এখানে
ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট থেকে আপনি যে প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করবেন তা সত্যিই বর্ণনাতীত। সকালের দিকে গেলে মেঘের সমুদ্রের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকার এক স্বর্গীয় অনুভূতি পাবেন। মনে হবে যেন আপনি মেঘের রাজ্যে হারিয়ে গেছেন।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় এই জায়গার সৌন্দর্য বহুগুণ বেড়ে যায়। সূর্যের আলো যখন পাহাড়ের গায়ে পড়ে, তখন সবুজের হাজারো শেড তৈরি হয়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ, দূরের পাহাড় শ্রেণী আর উপত্যকার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য – সব মিলিয়ে এক অবিস্মরণীয় ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।

আরও: মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র
নীলগিরি – মেঘের রাজ্য
ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট নীলগিরির একেবারে কাছেই অবস্থিত হওয়ায় দুটি জায়গা একসাথেই ঘুরে দেখা সম্ভব। নীলগিরিকে বলা হয় বাংলার দার্জিলিং। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই পর্যটন কেন্দ্রটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালনা করে।
বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নীলগিরিতে দিগন্ত জুড়ে দেখা যায় সবুজ পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি খেলা। বর্ষা, শরৎ ও হেমন্তে এখানে মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ায় সারাদিন। শীতে কুয়াশার চাদরে মুড়ে থাকে চারপাশ – এক অপূর্ব দৃশ্য।

নীলগিরিতে মেঘ দেখতে পেতে হলে খুব সকালে পৌঁছাতে হবে। বর্ষা মৌসুমে সারাদিন মেঘের দেখা মিললেও শুকনো মৌসুমে সকাল ৯টার পর মেঘ উধাও হয়ে যায়। তাই ভোর থেকেই রওনা দিতে হবে যেন সকাল ৭-৮টার মধ্যে নীলগিরিতে পৌঁছানো যায়।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বান্দরবান
ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বান্দরবানের জন্য সরাসরি বাস পাওয়া যায়। আব্দুল্লাহপুর, আরামবাগ, কল্যাণপুর, গাবতলী ও সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস ছেড়ে যায়।
- নন-এসি বাসের ভাড়া: ৮০০-১০০০ টাকা
- এসি বাসের ভাড়া: ১২০০-১৮০০ টাকা
- যাত্রা সময়: ৮-১০ ঘণ্টা
জনপ্রিয় বাস সার্ভিস: শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সৌদিয়া পরিবহন, এস আলম পরিবহন।
চট্টগ্রাম হয়ে যাওয়া
চট্টগ্রামে এসে নতুন ব্রিজ থেকে বাসে বান্দরবান যেতে পারবেন। অথবা কক্সবাজারগামী বাসে কেরানীহাট নেমে সেখান থেকে বান্দরবান যাওয়া যায়।
বান্দরবান থেকে ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট ও নীলগিরি
বান্দরবান সদর থেকে জীপ, চান্দের গাড়ি, মহেন্দ্র অথবা সিএনজি ভাড়া করে যেতে হবে। রিজার্ভ গাড়ি নেওয়াই সবচেয়ে ভালো, কারণ তখন পথে অন্যান্য দর্শনীয় স্থানও ঘুরে দেখা যাবে।
গাড়ি ভাড়া (সারাদিনের জন্য)
- সিএনজি (৩-৪ জন): ২০০০-২৫০০ টাকা
- ছোট জীপ/মহেন্দ্র (৪-৫ জন): ৩৫০০-৪৫০০ টাকা
- চান্দের গাড়ি (১২-১৪ জন): ৪৫০০-৫৫০০ টাকা
- ল্যান্ডক্রুজার জীপ (৭-৮ জন): ৪৫০০-৫০০০ টাকা
লোকাল বাসে যাওয়া
বাজেট ট্রাভেল করতে চাইলে বান্দরবান থেকে থানচিগামী লোকাল বাসে উঠতে পারেন। ড্রাইভারকে বললে নীলগিরি বা ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্টে নামিয়ে দেবে। ভাড়া জনপ্রতি ১২০-১৫০ টাকা।
যাত্রা সময়
বান্দরবান থেকে নীলগিরি/ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট যেতে দেড় থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে।
আরও: সাঙ্গু নদী
পথে যেসব জায়গা দেখবেন
বান্দরবান থেকে নীলগিরি যাওয়ার পথেই পড়বে আরও কিছু দর্শনীয় স্থান। এগুলো একদিনেই ঘুরে দেখা সম্ভব:
- মিলনছড়ি ভিউ পয়েন্ট: আর্মি চেকপোস্টের কাছে অবস্থিত এই ভিউ পয়েন্ট থেকে চারপাশের সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়।
- শৈলপ্রপাত ঝর্ণা: স্বচ্ছ ও ঠান্ডা পানির এই ঝর্ণায় গা ভেজানোর সুযোগ আছে। পাশেই বম আদিবাসী পাড়া থেকে তাজা পাহাড়ি ফল কিনতে পারবেন।
- চিম্বুক পর্যটন কেন্দ্র: বান্দরবানের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। এখানেও অসাধারণ পাহাড়ি দৃশ্য দেখা যায়।
- টাইটানিক ভিউ পয়েন্ট: নীলগিরি যাওয়ার পথে আরেকটি চমৎকার ভিউ পয়েন্ট।
- নীলগিরি: মূল গন্তব্য, মেঘের রাজ্য।
- ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট: নীলগিরির একদম কাছেই।
এন্ট্রি ফি ও খরচ
- নীলগিরি এন্ট্রি ফি: প্রতিজন ৫০ টাকা
- ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট: কোনো এন্ট্রি ফি নেই
- চিম্বুক এন্ট্রি ফি: প্রতিজন ৩০-৫০ টাকা
- মিলনছড়ি: বিনামূল্যে
- শৈলপ্রপাত: বিনামূল্যে
কোথায় খাবেন
ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্টের সামনে আদিবাসীদের ছোট দোকান রয়েছে। সেখানে পাহাড়ি ফলমূল, চা ও হালকা নাস্তা পাওয়া যায়। তবে সাথে কিছু শুকনো খাবার নিয়ে যাওয়াই ভালো।
নীলগিরিতে খাওয়ার ব্যবস্থা
নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে সেনাবাহিনী পরিচালিত ক্যান্টিন আছে। সেখানে খিচুড়ি, ভাত-তরকারি, চা-নাস্তা পাওয়া যায়। দাম তুলনামূলক সাশ্রয়ী।
চিম্বুকে খাবার
চিম্বুক পর্যটন কেন্দ্রেও রেস্তোরাঁ আছে যেখানে দুপুরের খাবার খেতে পারবেন।
বান্দরবান শহরে
বান্দরবান শহরে ফিরে আসলে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় খেতে পারবেন। পাহাড়ি খাবারের স্বাদ নিতে চাইলে স্থানীয় রেস্তোরাঁ খুঁজে নিন।
কোথায় থাকবেন
বেশিরভাগ পর্যটক ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট ও নীলগিরি ঘুরে একই দিনে বান্দরবান শহরে ফিরে আসেন। তবে চাইলে নীলগিরিতে রাত কাটানোর ব্যবস্থা আছে।
নীলগিরিতে থাকা
নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে সেনাবাহিনী পরিচালিত কটেজ রয়েছে। আগে থেকে বুকিং দিতে হয়। রাতে থাকলে সূর্যোদয় ও মেঘের অসাধারণ দৃশ্য দেখতে পারবেন।
বান্দরবান শহরে হোটেল
বান্দরবান শহরে বিভিন্ন মানের হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। কিছু জনপ্রিয় হোটেল:
- হোটেল হিল ভিউ: বাস স্ট্যান্ডের পাশে। ভাড়া ১২০০-২৮০০ টাকা।
- হোটেল হিলটন: বাস স্ট্যান্ডের কাছে। ভাড়া ৮০০-৩০০০ টাকা।
- হোটেল প্লাজা: নিজস্ব রেস্তোরাঁ সহ। ভাড়া ১৫০০-৬০০০ টাকা।
- রিভার ভিউ হোটেল: সাঙ্গু নদীর তীরে। ভাড়া ৬০০-১৮০০ টাকা।
- পর্যটন মোটেল: মেঘলায় (শহর থেকে ৪ কিমি)। ভাড়া ১০০-২৫০০ টাকা।
- হোটেল নাইট হ্যাভেন: নীলাচলের কাছে। ভাড়া ১৫০০-৪০০০ টাকা।
ভ্রমণের সেরা সময়
মেঘ দেখার জন্য: জুলাই থেকে অক্টোবর (বর্ষা ও শরৎকাল) সবচেয়ে ভালো। এ সময় প্রায় সারাদিনই মেঘের দেখা মেলে।
সাফ আকাশ ও দূরের দৃশ্যের জন্য: নভেম্বর থেকে মার্চ (হেমন্ত ও শীতকাল) উত্তম। এ সময় আকাশ পরিষ্কার থাকে, দূরের পাহাড় স্পষ্ট দেখা যায়।
এড়িয়ে চলুন: চৈত্র-বৈশাখের প্রচণ্ড গরম এবং বর্ষার শুরুতে অতিবৃষ্টির সময় (পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকে)।

এক দিনের ট্যুর প্ল্যান
যদি একদিনে সব জায়গা ঘুরতে চান, তাহলে এভাবে পরিকল্পনা করতে পারেন:
সকাল ৬:০০ – বান্দরবান থেকে রওনা (মেঘ দেখার জন্য খুব সকালে রওনা দিতে হবে)
সকাল ৬:৩০-৭:০০ – মিলনছড়ি ভিউ পয়েন্টে সংক্ষিপ্ত থামা (চেকপোস্টে)
সকাল ৮:০০-৮:৩০ – নীলগিরি পৌঁছানো, মেঘ দেখা ও ফটোগ্রাফি
সকাল ১০:০০-১০:৩০ – ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট
সকাল ১১:০০-১২:০০ – চিম্বুক পাহাড়
দুপুর ১২:৩০-১:৩০ – চিম্বুক বা নীলগিরিতে দুপুরের খাবার
বিকাল ২:০০-২:৩০ – শৈলপ্রপাত ঝর্ণা
বিকাল ৪:০০-৫:৩০ – নীলাচল (বান্দরবান শহরের কাছে)
সন্ধ্যা ৬:৩০ – বান্দরবান শহরে ফিরে আসা
দুই দিনের আদর্শ প্ল্যান
প্রথম দিন:
- সকালে বান্দরবান পৌঁছানো
- স্বর্ণমন্দির, মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র ও নীলাচল ঘোরা
- রাতে বান্দরবানে থাকা
দ্বিতীয় দিন:
- খুব সকালে মিলনছড়ি, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, টাইটানিক ভিউ পয়েন্ট, ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট ও নীলগিরি ঘোরা
- বিকেলে বান্দরবান ফিরে ঢাকার বাসে রওনা
গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ টিপস
- শুধু ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট দেখার জন্য না গিয়ে বান্দরবান-থানচি রোডের অন্যান্য স্থানও প্ল্যানে রাখুন।
- মেঘ দেখতে চাইলে অবশ্যই খুব সকালে যেতে হবে। সকাল ৯টার পরে মেঘ উধাও হয়ে যায়।
- নীলগিরি থাকলে আগে নীলগিরি ঘুরে ফেরার পথে ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট দেখুন।
- গাড়ি ভাড়ার সময় কোন কোন জায়গায় থামবেন তা স্পষ্ট করে বলে নিন। দরদাম করতে ভুলবেন না।
- হালকা জ্যাকেট বা সোয়েটার সাথে রাখুন। পাহাড়ে ঠান্ডা থাকে, বিশেষত সকালে।
- আরামদায়ক স্পোর্টস শু পরুন। হাই হিল এড়িয়ে চলুন।
- সানস্ক্রিন ও টুপি: রোদ থেকে বাঁচতে সাথে রাখুন।
- সাথে বোতলের পানি ও চকলেট/বিস্কুট নিন।
- পাওয়ার ব্যাংক সাথে নিন। অসাধারণ ফটোগ্রাফির সুযোগ আছে।
- জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট অবশ্যই সাথে রাখুন। চেকপোস্টে দেখাতে হতে পারে।
- প্লাস্টিক পলিথিন ব্যবহার না করে পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতন থাকুন।
- আদিবাসীদের সম্মান করুন এবং তাদের ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।
টোটাল খরচ ধারণা (মাথাপিছু)
একদিনের ভ্রমণ (ঢাকা থেকে):
- বাস ভাড়া (যাওয়া-আসা): ১৬০০-৩৬০০ টাকা
- গাড়ি ভাড়া (শেয়ার করলে): ৪০০-৬০০ টাকা
- খাবার: ৫০০-৮০০ টাকা
- এন্ট্রি ফি: ১০০-১৫০ টাকা
- অন্যান্য: ৩০০-৫০০ টাকা
মোট: ২৯০০-৫৬৫০ টাকা
দুই দিনের ভ্রমণ:
- বাস ভাড়া: ১৬০০-৩৬০০ টাকা
- হোটেল (১ রাত): ৫০০-১৫০০ টাকা
- গাড়ি ভাড়া: ৪০০-৬০০ টাকা
- খাবার (৩ বেলা): ৮০০-১২০০ টাকা
- এন্ট্রি ফি: ১৫০-২৫০ টাকা
- অন্যান্য: ৫০০-৮০০ টাকা
মোট: ৩৯৫০-৭৯৫০ টাকা
নিরাপত্তা টিপস
- পাহাড়ি রাস্তা আঁকাবাঁকা হওয়ায় সাবধানে চলাচল করুন।
- ভিউ পয়েন্টের কিনারায় খুব কাছে যাবেন না।
- বর্ষায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকে, আবহাওয়ার খবর জেনে যান।
- মূল্যবান জিনিসপত্র সযত্নে রাখুন।
- রাতের বেলা একা একা ঘোরাফেরা এড়িয়ে চলুন।
যোগাযোগ তথ্য
বান্দরবান ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার: ০৩৬১-৬২০১৫
জরুরি নাম্বার:
- জেলা পুলিশ: ০৩৬১-৬২০২৩
- ফায়ার সার্ভিস: ০৩৬১-৬২১৯৯
- হাসপাতাল: ০৩৬১-৬২২৪৬
প্রয়োজনীয় কিছু কথা
- হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয়।
- ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান দাম সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন।
- প্রকৃতি ও পরিবেশের যত্ন নিন, ময়লা আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে ফেলুন।
- স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতিকে সম্মান করুন।
ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট নিয়ে FAQ
ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট কোথায় অবস্থিত?
ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট বান্দরবান জেলার বান্দরবান-থানচি সড়কে নীলগিরির একেবারে কাছেই অবস্থিত। বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৪৮-৫০ কিলোমিটার দূরত্বে।
ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্টে এন্ট্রি ফি কত?
বর্তমানে ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্টে প্রবেশের জন্য কোনো ফি নেই। তবে এটি পরিবর্তন হতে পারে। নীলগিরিতে প্রবেশ ফি জনপ্রতি ৫০ টাকা।
পয়েন্টে যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় কখন?
মেঘ দেখতে চাইলে জুলাই থেকে অক্টোবর (বর্ষা ও শরৎকাল) সবচেয়ে ভালো সময়। পরিষ্কার আকাশ ও দূরের পাহাড়ি দৃশ্য দেখতে চাইলে নভেম্বর থেকে মার্চ (হেমন্ত ও শীতকাল) উপযুক্ত সময়।
সকাল না বিকাল – কখন যাওয়া ভালো?
খুব সকালে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো, বিশেষত মেঘ দেখতে চাইলে। সকাল ৭-৮টার মধ্যে পৌঁছালে মেঘের সুন্দর দৃশ্য দেখার সম্ভাবনা বেশি। সকাল ৯টার পরে মেঘ সরে যায়। তবে সূর্যাস্তের দৃশ্যও অসাধারণ।
সেখানে কতক্ষণ সময় দিতে হবে?
শুধু ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্টে ৩০-৪৫ মিনিট যথেষ্ট। তবে নীলগিরি, চিম্বুক, শৈলপ্রপাত সহ পুরো রুটে ৬-৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
নীলগিরি ও ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট কি একই জায়গা?
না, এরা দুটি আলাদা জায়গা তবে খুবই কাছাকাছি। একই সড়কে এবং একই দিনে দুটোই ঘুরে দেখা যায়। নীলগিরি থেকে ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে।
সেখানে থাকার ব্যবস্থা আছে কি?
ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্টে থাকার ব্যবস্থা নেই। নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে সেনাবাহিনী পরিচালিত কটেজ আছে, আগে থেকে বুকিং দিতে হয়। অথবা বান্দরবান শহরে হোটেল-রিসোর্টে থাকতে পারবেন।
একদিনে কি সব জায়গা ঘোরা সম্ভব?
হ্যাঁ, সম্ভব। খুব সকালে (ভোর ৫-৬টায়) বান্দরবান থেকে বের হলে মিলনছড়ি, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, টাইটানিক ভিউ পয়েন্ট, নীলগিরি ও ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট সব ঘুরে বিকেলে ফিরে আসা যায়।
বর্ষাকালে যাওয়া কি নিরাপদ?
বর্ষার শুরুতে (মে-জুন) পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকে, তাই সতর্ক থাকতে হয়। জুলাই-অক্টোবরে মেঘ দেখার জন্য সবচেয়ে ভালো সময় হলেও আবহাওয়ার খবর দেখে যাওয়া উচিত। অতিবৃষ্টির সময় এড়িয়ে চলা ভালো।
সাথে কি কি নিয়ে যাব?
জাতীয় পরিচয়পত্র, হালকা জ্যাকেট/সোয়েটার, আরামদায়ক জুতা, সানগ্লাস, সানস্ক্রিন, টুপি, পানির বোতল, শুকনো খাবার, ক্যামেরা/মোবাইল ফোন চার্জার, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র এবং নগদ টাকা।
চেকপোস্টে কি কাগজপত্র লাগবে?
হ্যাঁ, পথে সেনাবাহিনীর চেকপোস্ট আছে। সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট দেখাতে হয়। বিদেশী নাগরিকদের জন্য বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে।
মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় কি?
পথে কিছু জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল বা নাও পাওয়া যেতে পারে। তবে নীলগিরি ও ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্টে সাধারণত নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়।
ফটোগ্রাফি করা যায়?
হ্যাঁ, সর্বত্র ফটোগ্রাফি করা যায়। তবে আদিবাসীদের ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন। সেনাবাহিনী চেকপোস্ট বা সংবেদনশীল এলাকায় ছবি তোলা নিষেধ।
শিশু ও বয়স্কদের জন্য কি উপযুক্ত?
হ্যাঁ, তবে পাহাড়ি রাস্তা আঁকাবাঁকা হওয়ায় গাড়িতে মোশন সিকনেস হতে পারে। বয়স্ক ও শিশুদের বিশেষ যত্ন নিতে হবে। ভিউ পয়েন্টে সতর্কতার সাথে চলাফেরা করতে হবে।
একা ভ্রমণ করা কি নিরাপদ?
হ্যাঁ, তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। তবে দলবদ্ধ ভ্রমণ সবসময়ই ভালো। একা গেলে অন্যান্য ভ্রমণকারীদের সাথে যুক্ত হয়ে গাড়ি শেয়ার করতে পারেন।
ট্যুর অপারেটরের সাহায্য নেওয়া কি ভালো?
নতুন ভ্রমণকারীদের জন্য ট্যুর প্যাকেজ নেওয়া সুবিধাজনক হতে পারে। তবে নিজে থেকে পরিকল্পনা করলে খরচ কম হয় এবং নিজের সময়মতো ঘোরা যায়।
ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট ও নীলগিরি বান্দরবানের এমন দুটি জায়গা যেখানে প্রকৃতি তার পূর্ণ সৌন্দর্য নিয়ে হাজির হয়। মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলা, অসীম সবুজ পাহাড় আর স্বর্গীয় শান্তি – সবকিছু মিলে এক অবিস্মরণীয় ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উপহার দেবে।
পাহাড়ের কোলে বসে মেঘের সাথে হারিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখলে, একবার হলেও ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট ও নীলগিরিতে যেতেই হবে। যথাযথ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে গেলে এই ভ্রমণ হবে আপনার জীবনের সেরা স্মৃতিগুলোর একটি।
ফেসবুক: Kuhudak

