বিদেশে কাজের স্বপ্ন দেখছেন? তাহলে ম্যানপাওয়ার কার্ড বা BMET ক্লিয়ারেন্স কার্ড সম্পর্কে জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়ার ক্ষেত্রে এই কার্ড একটি বাধ্যতামূলক ডকুমেন্ট। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি কর্মী সৌদি আরব, দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে কাজের সুযোগ পান। কিন্তু বৈধ ভিসা থাকলেও ম্যানপাওয়ার কার্ড ছাড়া বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পার হওয়া সম্ভব নয়।
অনেকেই জানেন না যে BMET কি, ম্যানপাওয়ার কার্ড কিভাবে করতে হয়, কোথায় আবেদন করতে হয়, কত টাকা খরচ হয় বা কত দিন সময় লাগে। আবার অনেকে দালালদের ফাঁদে পড়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করেন বা প্রতারণার শিকার হন। এই লেখায় আমরা ম্যানপাওয়ার প্রসেসিং থেকে শুরু করে BMET স্মার্ট কার্ড পাওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া বিস্তারিত আলোচনা করব।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা যা প্রবাসী কর্মীদের নিরাপদ ও আইনগত অভিবাসন নিশ্চিত করে। ১৯৭৬ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি কর্মীদের বিদেশে নিয়োগ ও প্রেরণের ব্যবস্থাপনা করে আসছে।
এই সম্পূর্ণ গাইডে আপনি জানতে পারবেন ম্যানপাওয়ার কার্ড কি, BMET রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট, খরচ, PDO ট্রেনিং, বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট, অনলাইনে কার্ড চেক করার নিয়ম এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। চলুন শুরু করা যাক…
আরও: সৌদি আরবের মেডিকেল করার সম্পূর্ণ গাইড
ম্যানপাওয়ার কার্ড কি এবং কিভাবে পাবেন তার বিস্তারিত
ম্যানপাওয়ার কি
ম্যানপাওয়ার শব্দটি সাধারণত বাংলাদেশে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য জনশক্তি রপ্তানির প্রক্রিয়া বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত দক্ষ বা অদক্ষ শ্রমিকদের বিদেশে কাজের সুযোগ প্রদান এবং তাদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার একটি সরকারি ব্যবস্থাপনা। ম্যানপাওয়ার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীরা সৌদি আরব, দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কাতার, কুয়েত এবং অন্যান্য দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।
BMET কি
BMET এর পূর্ণরূপ হলো Bureau of Manpower, Employment and Training (জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো)। এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সংস্থা যা ঢাকায় অবস্থিত।
BMET এর প্রতিষ্ঠা ও উদ্দেশ্য
১৯৭৬ সালে তৎকালীন জনশক্তি উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে BMET প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশি কর্মীদের বিদেশে নিয়োগ ও প্রেরণের ব্যবস্থা করা।
BMET এর প্রধান কার্যক্রম
BMET বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে:
- দক্ষ জনশক্তি তৈরি: স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা
- নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ: প্রবাসীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
- বিদেশি চাহিদা প্রক্রিয়াকরণ: বিদেশি নিয়োগকর্তাদের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা
- ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স নিয়ন্ত্রণ: নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য বিদেশগমনের ছাড়পত্র নিয়ন্ত্রণ করা
- রিক্রুটিং এজেন্সি তদারকি: যেসব বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বিদেশি নিয়োগকর্তাদের জন্য বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ দেয়, তাদের নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা
- প্রশিক্ষণ প্রদান: বিভিন্ন কর্মোপযোগী ট্রেডে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিক বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান
- তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার: কম্পিউটারাইজড ডাটাবেসের মাধ্যমে শ্রমবাজারের তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার করা
ম্যানপাওয়ার কার্ড কি
BMET ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স স্মার্ট কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াকে বাংলাদেশে “ম্যানপাওয়ার প্রসেসিং” বলা হয় এবং ক্লিয়ারেন্সের পরে যে কার্ড ইশু করা হয় তাকে “ম্যানপাওয়ার কার্ড” বলা হয়।
ম্যানপাওয়ার কার্ডের বৈশিষ্ট্য
ম্যানপাওয়ার কার্ড একটি আধুনিক ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড যাতে থাকে:
- কর্মীর পাসপোর্ট তথ্য
- ভিসার বিস্তারিত তথ্য
- বায়োমেট্রিক তথ্য (ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি)
- QR কোড ভিত্তিক ডিজিটাল NFC প্রযুক্তি
বর্তমানে সরকার অনলাইন ভিত্তিক PDF কপি প্রদান করছে; প্লাস্টিক কার্ড প্রদান করা হচ্ছে না।
ম্যানপাওয়ার কার্ড কেন প্রয়োজন
যদি কোনো দেশ থেকে নতুন ভিসা পেয়ে থাকেন যেখানে বাংলাদেশ থেকে কর্মসংস্থানের অনুমতি রয়েছে এবং আপনার ভিসা টাইপ ওয়ার্ক পারমিট হয়, তাহলে আপনাকে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে BMET ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স স্মার্ট কার্ড পেতে হবে। বৈধ ভিসা থাকলেও এই কার্ড ছাড়া বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পাস করতে দেওয়া হবে না।
সব ধরনের চাকরির ভিসা, কর্মসংস্থান বা জব টাইপ ভিসা নিয়ে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক সকল বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এই ম্যানপাওয়ার/BMET ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স কার্ড প্রক্রিয়াকরণ সেবা বাধ্যতামূলক। এমনকি ইউরোপ, আমেরিকা বা মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইস্যু করা সকল কর্মসংস্থান ভিসা এই প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হয়।
আরও: সৌদি মেডিকেল রিপোর্ট চেক – সম্পূর্ণ গাইড
ম্যানপাওয়ার কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা
ম্যানপাওয়ার কার্ড পেতে হলে নিম্নলিখিত যোগ্যতা থাকতে হবে:
- বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে
- ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণী পাস (শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে)
- বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর এবং সর্বোচ্চ ৪৮ বছর
- শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে
- বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা থাকতে হবে
- বিদেশি ভাষা জানা থাকলে অগ্রাধিকার পাবেন
- কোনো আইনি সমস্যায় জড়িত না থাকতে হবে
ম্যানপাওয়ার কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
ম্যানপাওয়ার প্রসেসিং এর জন্য সাধারণত নিম্নলিখিত ডকুমেন্টগুলি প্রয়োজন:
- বৈধ পাসপোর্ট: কমপক্ষে ১ বছরের মেয়াদ থাকতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে পুরাতন পাসপোর্টও চাওয়া হতে পারে।
- ফিঙ্গারপ্রিন্ট/বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট: স্থানীয় জেলা BMET অফিসে করতে হবে
- PDO সার্টিফিকেট: ৩ দিনের প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট (যারা ঐ দেশে কমপক্ষে ১২ মাস কাটিয়েছেন তাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়)
- ভিসা ও চুক্তিপত্রের অ্যাটেস্টেশন: ভিসা ইস্যুকারী দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ভিসা ও চুক্তিপত্রের সত্যায়ন (সব দেশের জন্য প্রয়োজন নয়)
- BMET রেজিস্ট্রেশন কপি
- ব্যাংক একাউন্টের প্রমাণ: নিজের এবং পরিবারের কোনো সদস্যের ব্যাংক একাউন্টের কপি
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ারের মতো পেশাদারদের জন্য PDO সাধারণত প্রয়োজন হয় না, তবে ভিসা কপিতে পেশা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
প্রক্রিয়াকরণের ধাপসমূহ
১. BMET ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন
প্রথমে BMET এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (https://employee.oep.gov.bd/employee/pre-registered) এ গিয়ে নিজেকে রেজিস্টার করতে হবে। এখানে PDO অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে এবং বায়োমেট্রিকসের জন্য ফি প্রদান করতে হবে।
২. স্থানীয় জেলা BMET অফিসে বায়োমেট্রিক
নিজের জেলার BMET অফিসে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট করাতে হবে।
৩. PDO (Pre-Departure Orientation) প্রশিক্ষণ
প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন (PDO) একটি ৩ দিনের কোর্স যা বিদেশে কাজে যোগ দিতে ইচ্ছুক অভিবাসী/প্রবাসী কর্মীদের জন্য ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া, দেশের প্রচলিত আইন, প্রয়োজনীয় নীতি এবং বিদেশে কর্মসংস্থান বিধি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা প্রদান করতে সাহায্য করে।
এই কোর্সের মাধ্যমে:
- চাকরি, সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং গন্তব্য দেশের পরিবেশ সম্পর্কে পূর্ব ধারণা পাবেন
- বিভিন্ন সংক্রামক রোগ এবং সংশ্লিষ্ট চলমান নীতি ও পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন
- গন্তব্য দেশের সংস্কৃতি, আইন, শ্রম আইন, আবহাওয়া, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান পাবেন
৪. সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন
আবেদনকারীকে অবশ্যই একটি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। ঢাকা এবং চট্টগ্রামের দুটি BMET শাখা থেকে এই সেবা প্রদান করা হয়।
৫. ম্যানপাওয়ার কার্ড প্রাপ্তি
সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, আপনার পাসপোর্ট একটি ডিজিটাল BMET স্মার্ট কার্ড সহ প্রস্তুত হবে এবং ডেলিভারি করা হবে।
প্রক্রিয়াকরণের সময় ও খরচ
- সময়: সাধারণত ৭-১০ দিন লাগে। কিছু ক্ষেত্রে ১-৫ কার্যদিবসও লাগতে পারে
- খরচ: দেশ এবং ভিসার ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। সাধারণত ৬,০০০-৮,৫০০ টাকা খরচ হয়
BMET ফি সাধারণত অন্তর্ভুক্ত করে:
- স্মার্ট কার্ড ফি: ৫০ টাকা
- Wage Earners’ Welfare Board (WEWB) এ অবদান: ৩,০৫০ টাকা
- স্ট্যাম্প ফি: ৩০০ টাকা
ম্যানপাওয়ার কার্ড অনলাইনে চেক করার নিয়ম
ম্যানপাওয়ার কার্ড অনলাইনে চেক করতে নিম্নলিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করুন:
আমি প্রবাসী পোর্টাল থেকে চেক
- আমি প্রবাসী পোর্টাল (www.amiprobashi.com) ভিজিট করুন
- আপনার রেজিস্টার্ড পাসপোর্ট নম্বর এবং ক্যাপচা কোড লিখুন
- ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন
- আপনার BMET স্মার্ট কার্ড দেখতে বা ডাউনলোড করতে পারবেন
বায়োমেট্রিক যাচাই
BMET এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বায়ো-ফিঙ্গার এনরোলমেন্ট ভ্যালিডেশনের স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। আপনার এমপ্লয়মেন্ট রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে আপনার তথ্য যাচাই করা যাবে।
আমি প্রবাসী মোবাইল অ্যাপ
Google Play Store বা Apple App Store থেকে “আমি প্রবাসী” অ্যাপ ডাউনলোড করুন। আপনার বৈধ পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে লগইন করে স্মার্ট কার্ড চেক করতে পারবেন।
আরও: কাতার ভিসা চেক করবেন যেভাবে (সহজ উপায়)
ম্যানপাওয়ার সংস্থার কাজ
ম্যানপাওয়ার সংস্থাগুলি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে:
- বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান খোঁজা: বিদেশি কোম্পানি ও নিয়োগকর্তাদের সাথে সংযোগ স্থাপন
- দক্ষ কর্মী নির্বাচন: বাংলাদেশের মধ্যে দক্ষ শ্রমিক খুঁজে বের করা
- বিদেশি কোম্পানির সাথে সংযোগ: বাংলাদেশি কর্মীদের বিদেশি কোম্পানির সাথে যুক্ত করা
- প্রশিক্ষণ ও সহায়তা: দক্ষ কর্মীদের বিদেশি চাকরিতে যোগদানে সহায়তা এবং কর্মীদের সহায়তা প্রদান
- নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা: বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোম্পানির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা
BAIRA এর ভূমিকা
BAIRA (Bangladesh Association of International Recruiting Agencies) বাংলাদেশ সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাতে রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায্য হয়। এটি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলিকে বিদেশি কর্মসংস্থান প্রক্রিয়ার পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করে। এটি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলির মান উন্নত করতে এবং তারা পেশাদার ও নৈতিকভাবে কাজ করে তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
আরও: বাংলাদেশ থেকে ভিসা ছাড়া যেসব দেশে ভ্রমণ করা যায়
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- সব ডকুমেন্টের একাধিক কপি রাখুন: পাসপোর্ট, ভিসা, প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট ইত্যাদির একাধিক কপি সংরক্ষণ করুন
- অনুমোদিত এজেন্সি ব্যবহার করুন: শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন
- প্রয়োজনীয়তা আগে থেকে যাচাই করুন: যে দেশে যাচ্ছেন সেই দেশের নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা আগে থেকে জেনে নিন
- দালালদের এড়িয়ে চলুন: অনানুষ্ঠানিক দালাল বা এজেন্টদের মাধ্যমে প্রক্রিয়া না করে সরকারি চ্যানেল ব্যবহার করুন
- সব তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করুন: রেজিস্ট্রেশন ও ডকুমেন্টেশনে সব তথ্য সঠিক ও হালনাগাদ দিন
ম্যানপাওয়ার/BMET প্রক্রিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের বিদেশে নিরাপদ ও আইনি উপায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান করে। সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত রাখলে সহজেই ম্যানপাওয়ার কার্ড পাওয়া সম্ভব। এই কার্ড ছাড়া বিদেশে কাজে যাওয়া সম্ভব নয়, তাই সময়মতো এবং সঠিক নিয়মে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি।
ম্যানপাওয়ার বা BMET নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
BMET এর পূর্ণরূপ কি?
BMET এর পূর্ণরূপ হলো Bureau of Manpower, Employment and Training (জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো)।
ম্যানপাওয়ার কার্ড ছাড়া কি বিদেশে যাওয়া যায়?
না, ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে বিদেশে যাওয়ার জন্য ম্যানপাওয়ার কার্ড বাধ্যতামূলক। বৈধ ভিসা থাকলেও এই কার্ড ছাড়া বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পাস করা যাবে না।
ম্যানপাওয়ার কার্ড পেতে কত দিন সময় লাগে?
সাধারণত ৭-১০ দিন সময় লাগে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ১-৫ কার্যদিবসে পাওয়া যেতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে আরো বেশি সময় লাগতে পারে।
PDO ট্রেনিং কি এবং এটি কাদের জন্য বাধ্যতামূলক?
PDO (Pre-Departure Orientation) হলো ৩ দিনের একটি প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ যা গন্তব্য দেশের সংস্কৃতি, আইন, কর্ম পরিবেশ ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা দেয়। যারা আগে ঐ দেশে ১২ মাস কাটিয়েছেন বা ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার মতো পেশাদার তাদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয়।
ম্যানপাওয়ার কার্ডের জন্য ন্যূনতম বয়স কত?
ম্যানপাওয়ার কার্ড পাওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং সর্বোচ্চ ৪৮ বছর হতে হবে।
ম্যানপাওয়ার কার্ডের খরচ কত?
দেশ ও ভিসার ধরন অনুযায়ী খরচ পরিবর্তিত হয়। সাধারণত ৬,০০০-৬,৫০০ টাকা খরচ হয়, যার মধ্যে স্মার্ট কার্ড ফি, WEWB অবদান এবং স্ট্যাম্প ফি অন্তর্ভুক্ত।
ম্যানপাওয়ার কার্ড অনলাইনে চেক করার উপায় কি?
আমি প্রবাসী ওয়েবসাইট (www.amiprobashi.com) বা মোবাইল অ্যাপে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে লগইন করে ম্যানপাওয়ার কার্ড চেক করা যায়।
বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট কোথায় করতে হয়?
নিজের জেলার BMET অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট করাতে হবে। সারাদেশে প্রতিটি জেলায় BMET অফিস রয়েছে।
পাসপোর্টের কতদিনের মেয়াদ থাকতে হবে?
ম্যানপাওয়ার প্রসেসিং এর জন্য পাসপোর্টের কমপক্ষে ১ বছরের মেয়াদ থাকতে হবে।
কোন কোন দেশের জন্য ম্যানপাওয়ার কার্ড প্রয়োজন?
সৌদি আরব, দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কাতার, কুয়েত, ওমান সহ প্রায় সব দেশেই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে যাওয়ার জন্য ম্যানপাওয়ার কার্ড প্রয়োজন। এমনকি ইউরোপ ও আমেরিকার কর্মসংস্থান ভিসার জন্যও এটি প্রয়োজন।
রিক্রুটিং এজেন্সি কিভাবে বাছাই করব?
শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি ব্যবহার করুন। BAIRA এর সদস্য এজেন্সিগুলি বিশ্বস্ত। BMET ওয়েবসাইটে অনুমোদিত এজেন্সির তালিকা পাওয়া যাবে।
ম্যানপাওয়ার কার্ড হারিয়ে গেলে কি করব?
যদি কার্ড হারিয়ে যায়, তাহলে যেসব ডকুমেন্ট দিয়ে কার্ড করেছিলেন সেগুলো নিয়ে নিকটস্থ BMET অফিস বা আমি প্রবাসী পোর্টালে যোগাযোগ করুন। নতুন কপি ডাউনলোড করা যেতে পারে।
WEWB কি এবং এর সুবিধা কি?
WEWB (Wage Earners’ Welfare Board) হলো প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড। এই ফান্ডে অবদান রাখার মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীরা দুর্ঘটনা, মৃত্যু বা অন্যান্য সমস্যায় আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।
ম্যানপাওয়ার কার্ডের মেয়াদ কত দিন?
ম্যানপাওয়ার কার্ডের মেয়াদ সাধারণত আপনার চুক্তিপত্রের মেয়াদ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। ভিসার মেয়াদ শেষ হলে নতুন ভিসা নিয়ে পুনরায় প্রক্রিয়া করতে হবে।
ম্যানপাওয়ার প্রসেসিং এর জন্য কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন?
ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণী পাস থাকতে হবে। তবে পেশা ও কাজের ধরন অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে।
দালালদের কাছে যাওয়া কি ঠিক?
না, কখনোই দালালদের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করবেন না। সবসময় সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি ব্যবহার করুন। দালালদের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করলে প্রতারণার শিকার হতে পারেন।
বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে কি কি ডকুমেন্ট লাগবে?
বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট, ম্যানপাওয়ার কার্ড (PDF কপি মোবাইলে বা প্রিন্ট কপি), ভিসা, ফ্লাইট টিকেট এবং চুক্তিপত্রের কপি লাগবে।
ম্যানপাওয়ার কার্ড কি প্লাস্টিক কার্ড হিসেবে পাওয়া যায়?
বর্তমানে সরকার ডিজিটাল PDF কপি প্রদান করছে। প্লাস্টিক কার্ড প্রদান করা হচ্ছে না।
আমি প্রবাসী পোর্টাল কি?
আমি প্রবাসী হলো একটি সরকারি অনলাইন পোর্টাল এবং মোবাইল অ্যাপ যেখানে প্রবাসী কর্মীরা তাদের ম্যানপাওয়ার কার্ড চেক, ডাউনলোড এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন।
BMET অফিসের ঠিকানা কোথায় পাব?
BMET এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (www.bmet.gov.bd) এ সারাদেশের সকল জেলা অফিসের ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যাবে।
ফেসবুক: Kuhudak

