সৌদি মেডিকেল রিপোর্ট চেক করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন। সৌদি আরবে কাজ করার জন্য যাওয়ার আগে মেডিকেল টেস্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। মেডিকেল টেস্ট সম্পন্ন হওয়ার পর আপনার রিপোর্ট ফিট কিনা তা জানা অত্যাবশ্যক। এই গাইডে আমরা ধাপে ধাপে দেখাবো কিভাবে অনলাইনে আপনার সৌদি মেডিকেল রিপোর্ট চেক করবেন। চলুন শুরু করা যাক…
আরও: কাতার ভিসা চেক করবেন যেভাবে
মেডিকেল রিপোর্ট চেক করার গুরুত্ব
সৌদি আরবে যাওয়ার আগে মেডিকেল রিপোর্ট চেক করা জরুরি কারণ:
- ভিসা প্রসেসিং এর জন্য মেডিকেল ফিটনেস আবশ্যক
- রিপোর্ট আনফিট হলে পুনরায় পরীক্ষা করার সুযোগ থাকে
- সময়মতো সমস্যা শনাক্ত করে সমাধান করা যায়
- ভিসা প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়
যে তথ্য প্রয়োজন হবে
মেডিকেল রিপোর্ট চেক (Saudi Medical Report Check) করার জন্য আপনার কাছে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো থাকতে হবে:
- পাসপোর্ট নম্বর – আপনার পাসপোর্টে উল্লেখিত নম্বর
- জাতীয়তা – আপনার দেশের নাম (Bangladesh)
- অথবা – ওয়াফিড স্লিপ নম্বর (Wafid Slip Number) বা GCC slip NO
ধাপে ধাপে মেডিকেল রিপোর্ট চেক করার প্রক্রিয়া
ধাপ ১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে নিচের ওয়েবসাইটটি ওপেন করুন:
ওয়েবসাইট লিংক: https://wafid.com/medical-status-search/

ধাপ ২: তথ্য পূরণ করুন
ওয়েবসাইট ওপেন হওয়ার পর আপনি একটি ফর্ম দেখতে পাবেন (যদি By Passport Number সিলেক্ট করেন)। এখানে ২টি ফিল্ড রয়েছে:
- Passport Number (পাসপোর্ট নম্বর): প্রথম বক্সে আপনার পাসপোর্ট নম্বরটি সঠিকভাবে টাইপ করুন। কোনো ভুল হলে রিপোর্ট পাবেন না।
- Nationality (জাতীয়তা): ড্রপডাউন মেনু থেকে “Bangladeshi” সিলেক্ট করুন।

ধাপ ৩: Check বাটনে ক্লিক করুন
সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর চেক “Check” বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৪: রিপোর্ট দেখুন
সার্চ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার মেডিকেল রিপোর্ট স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন। রিপোর্টে যা যা থাকবে:
- রিপোর্টের স্ট্যাটাস (Fit/Unfit)
- আবেদনকারীর নাম
- মোবাইল নম্বর
- পাসপোর্ট নম্বর
- মেডিকেল সেন্টারের নাম
- পরীক্ষার তারিখ
- রক্তের গ্রুপ
- মেডিকেল রেফারেন্স নম্বর
- PDF ডাউনলোড অপশন
- আরও তথ্য
ওয়াফিড স্লিপ নম্বর (Wafid Slip Number)
আপনি চাইলে পাসপোর্ট ছাড়াও শুধুমাত্র ওয়াফিড স্লিপ নম্বর (Wafid Slip Number) বা GCC slip NO দিয়ে আপনার মেডিক্যাল রিপোর্ট চেক করতে পারবেন। এটার জন্য ওয়াফিড স্লিপ নম্বর (Wafid Slip Number) অপশনটি নির্বাচন করে আপনা কাছে থাকা ওয়াফিড স্লিপ নম্বর (Wafid Slip Number) বা GCC slip NO টি দিন এবং চেক (Check) বাটনে ক্লিক করুন।
রিপোর্ট স্ট্যাটাস বুঝুন
ফিট (Fit/Passed)
যদি আপনার রিপোর্টে “Fit” বা “Passed” লেখা থাকে, তাহলে আপনার মেডিকেল টেস্ট সফল হয়েছে এবং আপনি সৌদি আরবে কাজ করার জন্য চিকিৎসাগতভাবে যোগ্য। এক্ষেত্রে ভিসা প্রসেসিং সামনে এগিয়ে যাবে।
আনফিট (Unfit/Failed)
যদি “Unfit” বা “Failed” দেখায়, তাহলে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে:
- রিপোর্টে সমস্যার কারণ উল্লেখ থাকবে
- আপনার এজেন্সি বা রিক্রুটিং কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করুন
- প্রয়োজনে পুনরায় মেডিকেল টেস্ট করতে হতে পারে
পেন্ডিং (Pending)
যদি স্ট্যাটাস “Pending” বা “Under Process” দেখায়, তাহলে আপনার রিপোর্ট এখনো প্রক্রিয়াধীন। কয়েকদিন পর আবার চেক করুন।
সমস্যা সমাধান
রিপোর্ট পাচ্ছেন না?
যদি সার্চ করার পরও কোনো রিপোর্ট না পান, তাহলে:
- তথ্য পুনরায় চেক করুন: পাসপোর্ট নম্বর, জন্ম তারিখ এবং জাতীয়তা সঠিক কিনা নিশ্চিত হন।
- কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন: মেডিকেল টেস্টের পর রিপোর্ট আপলোড হতে ২-৭ দিন সময় লাগতে পারে।
- মেডিকেল সেন্টারে যোগাযোগ করুন: যে সেন্টারে টেস্ট করেছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন যে রিপোর্ট সাবমিট করা হয়েছে কিনা।
- এজেন্সির সাহায্য নিন: আপনার রিক্রুটিং এজেন্সিকে অবহিত করুন।
ভুল তথ্য দেখাচ্ছে?
যদি রিপোর্টে ভুল তথ্য থাকে (নাম, পাসপোর্ট নম্বর ইত্যাদি):
- অবিলম্বে মেডিকেল সেন্টারে যোগাযোগ করুন
- সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিন
- এজেন্সিকে জানান
গুরুত্বপূর্ণ টিপস
- মেডিকেল টেস্টের পর নিয়মিত রিপোর্ট চেক করুন
- রিপোর্টের স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করে রাখুন
- মেডিকেল রেফারেন্স নম্বর নোট করে রাখুন
- কোনো সমস্যা হলে দ্রুত এজেন্সিকে জানান
- পাসপোর্টে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী সব কিছু পূরণ করুন
- মেডিকেল টেস্টের আগে ভালো ঘুম এবং হাল্কা খাবার খান
মেডিকেল টেস্টে কি কি পরীক্ষা হয়?
সৌদি মেডিকেল টেস্টে সাধারণত নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলো করা হয়:
- রক্ত পরীক্ষা – HIV, হেপাটাইটিস B & C, ম্যালেরিয়া
- বুকের এক্স-রে – যক্ষ্মা (TB) শনাক্তকরণ
- প্রস্রাব পরীক্ষা – ডায়াবেটিস ও কিডনি সমস্যা
- শারীরিক পরীক্ষা – রক্তচাপ, ওজন, উচ্চতা
- মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন
রিপোর্টের মেয়াদ
মেডিকেল রিপোর্ট সাধারণত ৩ মাস পর্যন্ত বৈধ থাকে। এই সময়ের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় পুনরায় মেডিকেল করতে হতে পারে।
বি:দ্র: সৌদি মেডিকেল রিপোর্ট বিষয়ে কিছু না বুঝলে বা কোন পরামর্শের প্রয়োজন হলে কিংবা মেডিক্যাল করতে চাইলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
মেডিকেল টেস্টের রিপোর্ট পেতে কতদিন সময় লাগে?
সাধারণত মেডিকেল টেস্ট সম্পন্ন হওয়ার পর ২-৭ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট অনলাইনে আপলোড হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ১০-১৫ দিনও লাগতে পারে।
রিপোর্ট আনফিট হলে কি করব?
আনফিট হলে প্রথমে জানতে হবে কি কারণে আনফিট হয়েছে। তারপর চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার পর পুনরায় মেডিকেল টেস্ট করতে হবে। আপনার এজেন্সির সাথে আলোচনা করুন।
রিপোর্ট চেক করতে কোনো ফি লাগে কি?
না, Wafid ওয়েবসাইটে রিপোর্ট চেক করা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কোনো টাকা দিতে হয় না।
রিপোর্ট পাচ্ছি না, কি করব?
প্রথমে নিশ্চিত করুন যে সঠিক তথ্য দিয়ে চেক করছেন। যদি তবুও না পান, তাহলে মেডিকেল সেন্টারে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন যে তারা রিপোর্ট সাবমিট করেছে কিনা।
কতবার রিপোর্ট চেক করতে পারব?
যতবার ইচ্ছা ততবার রিপোর্ট চেক করতে পারবেন। এতে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।
মেডিকেল রিপোর্ট কতদিন বৈধ থাকে?
সৌদি মেডিকেল রিপোর্ট সাধারণত ৩ মাস বৈধ থাকে। এই সময়ের মধ্যে ভিসা প্রসেসিং সম্পন্ন করতে হয়।
রিপোর্ট ডাউনলোড করা যায় কি?
হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রিপোর্ট পিডিএফ ফরম্যাটে ডাউনলোড করা যায়। রিপোর্ট দেখার পেজে ডাউনলোড অপশন পাবেন।
মোবাইল থেকে রিপোর্ট চেক করা যায় কি?
হ্যাঁ, মোবাইল ফোনের ব্রাউজার থেকে Wafid ওয়েবসাইটে গিয়ে সহজেই রিপোর্ট চেক করতে পারবেন।
রিপোর্টে ভুল তথ্য থাকলে কি করব?
যে মেডিকেল সেন্টারে টেস্ট করেছেন তাদের সাথে অবিলম্বে যোগাযোগ করুন এবং সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিন।
কোন কোন রোগে আনফিট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি?
যক্ষ্মা (TB), HIV, হেপাটাইটিস B বা C, মানসিক রোগ, মাদকাসক্তি, এবং গুরুতর হৃদরোগ বা ডায়াবেটিস থাকলে আনফিট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ফেসবুক: Kuhudak

